কোনো একটি মৌলের অন্য কোনো মৌলের সাথে যুক্ত হয়ে যৌগ গঠন করার ক্ষমতাকে সেই মৌলটির যোজ্যতা বা যোজনী বলে।
আর জারণ সংখ্যা হচ্ছে একটি সংখ্যা যা নির্দেশ করে যৌগ গঠন করার জন্য একটি পরমাণু সর্বমোট কয়টি ইলেকট্রন হারিয়েছে বা গ্রহণ করেছে। যেমন N(7) এর ক্ষেত্রে যোজনী হলো 3, কিন্তু জারণ সংখ্যা হতে পারে -3 থেকে +5 পর্যন্ত।
অবস্থান্তর মৌলসমূহে পরিবর্তনশীল জারণ অবস্থা দেখা যায়। তার মূল কারণ-
আমরা জানি যে প্রত্যেকটি অরবিটালের নির্দিষ্ট কিছু পরিমাণ শক্তি আছে এবং একটি অরবিটালের সাথে আরেকটি অরবিটালের শক্তির কিছু পার্থক্য হয়। অবস্থান্তর মৌলসমূহের মধ্যে (n-1)d এবং ns অরবিটাল দুইটির শক্তির যে পার্থক্য তা ns ও np অরবিটালের শক্তির পার্থক্যের থেকে অনেক কম হয়। তাই এ সব ধাতুর ns অরবিটালের ইলেকট্রন ত্যাগের পর (n-1)d
অরবিটালের ইলেকট্রন বন্ধন সৃষ্টিতে সহজেই অংশ নেয়। বিজোড় ইলেক্ট্রনের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি থাকার কারণে তা আরো সহজ হয়ে যায়। ফলে এরা ভিন্ন ভিন্ন স্থায়ী জারণ সংখ্যা দেখায় এবং সে অনুযায়ী স্থায়ী যৌগ গঠন করে৷

যেমন, এখানে Mn(24). প্রথমে 4s অরবিটালের দুইটি ইলেকট্রন ত্যাগ করার পর এর জারণ সংখ্যা হলো +2 এবং যোজ্যতা হলো 2. এরপর 3d অরবিটাল থেকে আরো দুইটি ইলেকট্রন ত্যাগ করে এর জারণ সংখ্যা হলো +4 এবং যোজ্যতা হলো 4. এভাবেই Mn পরিবর্তনশীল যোজ্যতা এবং জারণ অবস্থা দেখিয়ে থাকে।
