আদর্শ গ্যাসঃ
যে সকল গ্যাস সকল তাপমাত্রা ও চাপে গ্যাসের সূত্রসমুহ মেনে চলে তাদের আদর্শ গ্যাস বলে। বাস্তবে আদর্শ গ্যাসের অস্তিত্ব নেই।
আদর্শ গ্যাসের বৈশিষ্ট্যঃ
১। সকল তাপমাত্রা ও চাপে PV=nRT সুত্র মেনে চলে।
২। স্থির তাপমাত্রায় আদর্শ গ্যাসের অভ্যন্তরীণ শক্তি এর আয়তনের উপর নির্ভরশীল নয়।
৩। সংকোচনশীল গুণাঙ্ক Z=1
৪। অণুসমূহের মধ্যে আকর্ষণ বিকর্ষণ নেই।
বাস্তব গ্যাসঃ
যে সকল গ্যাস সকল তাপমাত্রা ও চাপে গ্যাসের সূত্রসমুহ মেনে চলে না তাদের বাস্তব/অনাদর্শ গ্যাস বলে।
বৈশিষ্ট্যঃ
১। PV=nRT সূত্র মেনে চলে না।
২। ভ্যানডার ওয়ালস সমীকরণ মেনে চলে ![]()
৩। অভ্যন্তরীণ শক্তি আয়তনের উপর নির্ভরশীল
৪। সংকোচনশীল গুণাঙ্ক Z>1 / Z<1
৫। অণুসমূহের মধ্যে আকর্ষণ বিকর্ষণ বিদ্যমান।
আদর্শ আচরণ হতে বিচ্যুতিঃ
অ্যামাগার বক্রলেখাঃ
ফরাসি বিজ্ঞানী অ্যামাগা বাস্তব গ্যাসের আচরণ একটি লেখের মাধ্যমে উপস্থাপন করেন একে অ্যামাগার বক্রলেখ বলে।
H2,He গ্যাসের ক্ষেত্রে চাপ P বাড়ালে PV বাড়তে থাকে। এদের পেষণ মাত্রা কম।
CO, CH4 এর ক্ষেত্রে আবার ভিন্নতা লক্ষ করা যায়। এক্ষেত্রে চাপ P বাড়ালে PV এর মান কমতে থাকে। কিন্তু একটি নির্দিষ্ট বিন্দুতে পৌছানোর পর মান বাড়তে থাকে। এদের পেষণ মাত্রা বেশি।
আদর্শ গ্যাসের ক্ষেত্রে PV রেখা P অক্ষের সমান্তরাল হয় কিন্তু বাস্তব গ্যাসের ক্ষেত্রে ক্ষেত্রে পরিবর্তন দেখা যায়।
সংকোচনশীল/পেষণ গুণাঙ্কঃ
বাস্তব ও আদর্শ গ্যাসের আয়তনের মোলার অনুপাতই সংকোচনশীল/পেষণ গুণাঙ্ক। সংকোচনশীল গুণাঙ্ক এর উপর চাপ এবং তাপের প্রভাব রয়েছে।
চাপঃ
PV= Z nRT
Z = PV ÷ nRT…………(১)
এখানে Z= পেষণ গুণাঙ্ক,
আদর্শ গ্যাসের ক্ষেত্রে Z=1.
Z এর মান 1 থেকে যত কম / বেশি, বাস্তব গ্যাসটির বিচ্যুতি আদর্শ গ্যাস থেকে তত বেশি।
Z>1 = গ্যাসটি কম পেষণযোগ্য । উদাহরণঃ H2, He
Z<1 = গ্যাসটি অধিক পেষণযোগ্য CO,CH4,CO2, N2
১ নং সমীকরণ থেকে সহজেই বুঝতে পারি চাপ যত বাড়ে বিচ্যুতি ততো বাড়ে।
তাপমাত্রাঃ
তাপমাত্রা বাড়ালে বিচ্যুতি হ্রাস পেয়ে আদর্শ আচরণের দিকে যেতে থাকে। যে তাপমাত্রায় বাস্তব গ্যাস আদর্শ আচরণ করে, তাকে বয়েলের তাপমাত্রা বলে।
তাই বলা যায়, অতি নিম্ন চাপ ও উচ্চ তাপমাত্রায় বাস্তব গ্যাস আদর্শ গ্যাসের মত আচরণ করে।
