এসিডঃ
যেসব যৌগ ক্ষারকের সাথে বিক্রিয়ায় লবণ ও পানি উৎপন্ন করে তারাই এসিড। যেমন: HCL,
ক্ষারকঃ
ক্ষারক হচ্ছে কোনো ধাতুর অক্সাইড বা হাইড্রক্সাইড যৌগ যা এসিডের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ ও পানি প্রস্তুত করে । যেমন: ,ZnO,NaOH

এখানে HCl এসিড NaOH ক্ষারক বিক্রিয়া করে NaCl লবণ ও পানি উৎপন্ন করে।
এসিডের বৈশিষ্ট্যঃ
১।নীল লিটমাসকে লাল করে।
২।জলীয় দ্রবণে হাইড্রোজেন আয়ন( H+ )দান করে।
৩। স্বাদ টক।
৪।এসিড ধাতব কার্বনেটের সাথে বিক্রিয়া করে লবণ, পানি ও কার্বন–ডাই–অক্সাইড তৈরি করে।
ক্ষারকের বৈশিষ্ট্য :
১।লাল লিটমাসকে নীল করে।
২।ক্ষারক পানিতে(OH– )আয়ন দান করে।
৩। স্বাদ কটু ।
৪।সকল ক্ষারক পানিতে অদ্রবনীয় ।
সকল ক্ষারই ক্ষারক,তবে সকল ক্ষারক ক্ষার নয়
ক্ষার : যে যৌগের হাইড্রোক্সিল আয়ন(OH–)পানিতে দ্রবণীয়, তাই ক্ষার । যেমন : NaOH, KOH ইত্যাদি।
ক্ষারক-এ অক্সাইড, হাইড্রোক্সাইড উভয়ই থাকতে পারে৷ কিন্তু ক্ষারে শুধুমাত্র হাইড্রোক্সাইড থাকে। তাই সকল ক্ষার ই ক্ষারক হলেও, সকল ক্ষারক ক্ষার না৷
অম্ল ক্ষারক সম্পর্কে কয়েকটি তত্ত্ব রয়েছে৷
১. আরহেনিয়াস তত্ত্ব
২.ব্রনস্টেড লাউরী তত্ত্ব
৩ লুইস তত্ত্ব।
আরহেনিয়াস তত্ত্বঃ
যেসব হাইড্রোজেন যুক্ত যৌগ, যারা জলীয় দ্রবণ হাইড্রোজেন আয়ন (H +) দান করে তারা এসিড।
যেমনঃ HCl(aq), ইত্যাদি।
যে সব যৌগ জলীয় দ্রবণে হাইড্রোক্সিল আয়ন(OH–) দান করে তারা ক্ষারক।
যেমনঃ NaOH,KOH, ইত্যাদি।

আরহেনিয়ার তত্ত্বের উপযুক্ততাঃ
১। জলীয় দ্রবণে এ তত্ত্ব, অম্ল ক্ষারকের মতবাদ ব্যাখ্যায় কার্যকরী।
২।প্রশমন তাপের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারে।
৩। pH,pOH স্কেল ও বাফার দ্রবণ ব্যাখ্যা দিতে পারে।
৪।আরহেনিয়া তত্ত্ব অনুসারে অম্ল ও ক্ষারকের তীব্রতা কে বিয়োজন ধ্রুবক যথাক্রমে Ka ও Kb এর মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা যায়। (Ka=এসিডের বিয়োজন ধ্রুবক ,Kb= ক্ষারের বিয়োজন ধ্রুবক)
এসিডঃ
HA (aq) ⇌ H + + A –
Ka= [H+] [OH–] ÷ [HA]
Ka ∝ এসিডের বিয়োজন।
মনে রাখবে-
যে এসিডের বিয়োজন বেশি সেটি সবল এসিড। যেমন-HCl
যে এসিডের বিয়োজন কম সেটি দূর্বল এসিড। যেমন- CH3COOH
ক্ষারঃ
BOH (aq) ⇌ B + + OH–
Ka= [B+] [OH–] ÷ [BOH]
Kb ∝ ক্ষারের বিয়োজন।
মনে রাখবে-
Kb বেশি হলে তীব্র ক্ষারক।যেমন- NaOH
Kb কম হলে দূর্বল ক্ষারক। যেমন-NH4OH
আরহেনিয়ার তত্ত্বের সীমাবদ্ধতাঃ
১। অজলীয় দ্রবণ ও গ্যাসীয় অবস্থায় কার্যকর নয়।
২। ZnSO4, CuSO4, AlCl3, FeSo4 অম্লধর্মী হলেও Na2CO3 কেনো ক্ষারধর্মী? এর ব্যাখ্যা করতে পারে না৷
ব্রনস্টেড লাউরি তত্ত্বঃ
একে অম্ল-ক্ষারকের প্রোটনীয় তত্ত্বও বলা হয়।
যে যৌগ বা আয়ন অন্য পদার্থকে প্রোটন (H+) দান করতে পারে তাই অম্ল।
যেমনঃ ,HCl,
যে যৌগ বা আয়ন অম্ল হতে প্রোটন (H+) গ্রহণ করতে পারে সে হচ্ছে ক্ষারক।
যেমনঃ NH3, OH–, CO32- ।

BL=ব্রনস্টেড-লাউরি
এখানে NH3 একটি প্রোটন গ্রহণ করে NH4+ এ পরিণত হয়। আবার H2Oপ্রোটন ত্যাগ করে OH– এ পরিণত হয়।
লুইস তত্ত্বঃ
লুইস এসিড হলো এমন যৌগ বা আয়ন যা একটি ইলেকট্রন জোড় গ্রহণ করে।
যেমনঃ CO2, Cu2+, SO2, SO3, AlCl3 ইত্যাদি।
লুইস ক্ষারক হলো এমন যৌগ বা আয়ন যা একটি ইলেকট্রন জোড় দান করে।
যেমনঃ NH3, H2O, OH–, CN–, Cl– ইত্যাদি

এখানে NH3মুক্তজোড় ইলেক্ট্রন দান করে ও H+ মুক্তজোড় ইলেক্ট্রন গ্রহণ করে । তাই NH3 লুইস ক্ষারক ও H+ লুইস এসিড।
বৈশিষ্ট্যঃ
১। জটিল যৌগ গঠনে অবদান রয়েছে।
২। রাসায়নিক যৌগ গঠনে ভূমিকা রাখে।
At a glance:
আরহেনিয়াস তত্ত্ব:
অম্লঃ হাইড্রোজেন (H+) আয়ন দান।
ক্ষারকঃ হাইড্রক্সিল(OH–)আয়ন দান।
ব্রনস্টেড লাউরী তত্ত্ব
অম্লঃ প্রোটন (H+) দান
ক্ষারকঃ প্রোটন (H+) গ্রহণ
লুইস তত্ত্ব
অম্লঃ ইলেক্ট্রন জোড় গ্রহণ
ক্ষারঃ ইলেক্ট্রন জোড় দান
সব ব্রনস্টেড লাউরি এসিড/ক্ষারক আরহেনিয়াস এসিড/ক্ষারক ৷ তবে সব আরহেনিয়াস ব্রনস্টেড নয়।
আরনেহিয়াস তত্ত্বে এসিড যেমন হাইড্রোজেন আয়ন/প্রোটন দান ও ক্ষারক হাইড্রোক্সিল আয়ন দান করে তেমনি ব্রনস্টেড এ অম্ল প্রোটন দান/হাইড্রোজেন আয়ন দান করে ও ক্ষারক প্রোটন গ্রহণ/হাইড্রোক্সিল আয়ন ত্যাগ করতে পারে৷ কিন্তু সব আরহেনিয়াস যৌগ প্রোটন গ্রহণ/ত্যাগ করে না। তাই সব আরহেনিয়াস ব্রনস্টেড হলেও সব ব্রনস্টেড আরহেনিয়াস না।
আবার সব ব্রনস্টেড লাউরি এসিড ক্ষারক লুইস এসিড ক্ষারক,তবে সব লুইস ব্রনস্টেড নয়।
কেননা ব্রনস্টেড এ এসিড যেমন প্রোটন দান ও ক্ষারক গ্রহণ করে লুইস এ তেমনি এসিড ইলেক্ট্রন গ্রহণ/প্রোটন দান ও ক্ষারক ইলেক্ট্রন দান/প্রোটন গ্রহণ করে।
কিন্তু ব্রনস্টেড এর সব এসিড/ক্ষারক ইলেক্ট্রন গ্রহণ/ত্যাগ করতে পারে না তাই সবাই লাউরি তত্ত্ব সমর্থন করতে পারে না।
Special technic: ABL
A B L
আরহেনিয়াস, ব্রনস্টেড, লাউরি
সামনে যেতে পারবে তবে পিছনে যেতে পারবে না৷
সকল আরহেনিয়াস ক্ষারক ব্রনস্টেড হতে পারে তবে সকল ব্রনস্টেড আরহেনিয়াস ক্ষারক না।
সকল ব্রনস্টেড এসিড লুইস এসিড হতে পারে তবে সকল লুইস এসিড ব্রনস্টেড এসিড না।
অনুবন্ধী অম্ল-ক্ষারকঃ
কোন ক্ষারকের সাথে একটি প্রোটন (H+) যুক্ত হলে যে অম্লের সৃষ্টি হয় তাকে ওই ক্ষারকের অনুবন্ধী অম্ল বলে।
কোন অম্ল একটি প্রোটন (H+) ত্যাগ করলে যে ক্ষারকের সৃষ্টি হয় তাকে ঐ অম্লের অনুবন্ধী ক্ষারক বলে।

এখানে ক্ষারক একটি প্রোটন গ্রহণ করে এ পরিণত হয় ।তাই NH4+ ,NH3 এর অনুবন্ধী অম্ল। আবার অম্ল HCl একটি প্রোটন ত্যাগ করে এ পরিণত হয় । তাই Cl– ,HCl এর অনুবন্ধী ক্ষারক।